🌳 মসজিদে শাজারা — যুল হুলাইফা (মদিনার মিকাত)
Masjid ash-Shajarah (Dhul Hulayfah)
মদিনা থেকে উমরাহর ইহরাম বাঁধার মিকাত (আবইয়ার আলী)।
- কোথায়
- মসজিদে নববী থেকে প্রায় ১০–১৩ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, আকীক উপত্যকায়
- কাজ
- মদিনা থেকে মক্কাগামীদের মিকাত (যুল হুলাইফা)
- প্রচলিত নাম
- আবইয়ারে আলী
- মক্কা থেকে দূরত্ব
- প্রায় ৪২০ কিমি — সবচেয়ে দূরের মিকাত
১ নবী ﷺ-এর ইহরামের জায়গা
নবী ﷺ হজ্জ-উমরাহর জন্য পাঁচটি মিকাত নির্ধারণ করেছেন; মদিনাবাসীর জন্য যুল হুলাইফা (সহিহ বুখারি ১৫২৪)। বিদায় হজ্জে তিনি মদিনা থেকে বের হয়ে এখানে রাত কাটালেন, পরদিন গোসল করে ইহরাম বাঁধলেন আর উচ্চস্বরে তালবিয়া শুরু করলেন — সেই তালবিয়া যা আজও লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হয়।
তিনি এখানে একটি বাবলা জাতীয় গাছের (সামুরা) নিচে বিশ্রাম নিতেন; মক্কা যাওয়ার সময় “শাজারা” পথে যেতেন আর এখানকার মসজিদে নামাজ পড়তেন (সহিহ বুখারি ১৫৩৩) — তাই নাম মসজিদে শাজারা, গাছের মসজিদ।
২ বরকতময় উপত্যকা
উমর (রা.) বলেন, আকীক উপত্যকায় নবী ﷺ-কে বলতে শুনেছি: আজ রাতে আমার রবের পক্ষ থেকে একজন এসে বলল — এই বরকতময় উপত্যকায় নামাজ পড়ুন, আর বলুন: উমরাহ হজ্জের সাথে (সহিহ বুখারি ১৫৩৪)।
“আবইয়ারে আলী” (আলীর কূপ) নামটি পরের যুগের; আলী (রা.) এখানে জিনের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন — এমন কাহিনি ভিত্তিহীন।
📜 পূর্ণ হাদিস
হাদিসগুলো সম্পূর্ণ দেওয়া হয়েছে — কোনো অংশ বাদ দেওয়া হয়নি। প্রতিটির নিচে আরবি মূল পাঠও আছে।
হাদিস ১ · সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫২৪
পাঁচ মিকাত নির্ধারণ
মূল কথা: মদিনাবাসীর জন্য যুল হুলাইফা, শামের জন্য জুহফা, নজদের জন্য কারনুল মানাযিল, ইয়ামানের জন্য ইয়ালামলাম।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাঁধার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, মদিনাবাসীদের জন্য যুল-হুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহ্ফা, নজ্দবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম। হাজ্জ ও ‘উমরাহ নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসী সকলের জন্য উক্ত স্থানগুলো মীকাতরূপে গণ্য এবং যারা এ সব মীকাতের ভিতরে (অর্থাৎ মক্কার নিকটবর্তী) স্থানের অধিবাসী, তারা যেখান হতে হাজ্জের নিয়্যাত করে বের হবে (সেখান হতে ইহরাম বাঁধবে)। এমন কি মক্কাবাসী মক্কা হতেই (হাজ্জের) ইহরাম বাঁধবে।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَقَّتَ لأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ، وَلأَهْلِ الشَّأْمِ الْجُحْفَةَ، وَلأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنَ الْمَنَازِلِ، وَلأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ، هُنَّ لَهُنَّ وَلِمَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِهِنَّ، مِمَّنْ أَرَادَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ، وَمَنْ كَانَ دُونَ ذَلِكَ فَمِنْ حَيْثُ أَنْشَأَ، حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ مِنْ مَكَّةَ.
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫২৪
হাদিস ২ · সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫৩৪
বরকতময় উপত্যকা
মূল কথা: আকীক উপত্যকায় নামাজ পড়ার আদেশ।
‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আকীক উপত্যকায় অবস্থানকালে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ আজ রাতে আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে একজন আগন্তুক আমার নিকট এসে বললেন, আপনি এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলুন, (আমার এ ইহরাম) হাজ্জের সাথে ‘উমরাহ’রও।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، وَبِشْرُ بْنُ بَكْرٍ التِّنِّيسِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ إِنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِوَادِي الْعَقِيقِ يَقُولُ " أَتَانِي اللَّيْلَةَ آتٍ مِنْ رَبِّي فَقَالَ صَلِّ فِي هَذَا الْوَادِي الْمُبَارَكِ وَقُلْ عُمْرَةً فِي حَجَّةٍ ".
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫৩৪
হাদিস ৩ · সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫৩৩
শাজারার পথ
মূল কথা: মক্কা যাওয়ার সময় নবী ﷺ মসজিদে শাজারায় নামাজ পড়তেন।
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাজ্জের সফরে) শাজারা নামক পথ দিয়ে গমন করতেন এবং মু‘আররাস নামক পথ দিয়ে (মদিনায়) প্রবেশ করতেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার দিকে সফর করতেন, মাসজিদুশ-শাজারায় সালাত আদায় করতেন ও ফিরার পথে যুল-হুলাইফাহ’র বাত্নুল-ওয়াদীতে সালাত আদায় করতেন এবং সেখানে সকাল পর্যন্ত রাত যাপন করতেন।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْرُجُ مِنْ طَرِيقِ الشَّجَرَةِ، وَيَدْخُلُ مِنْ طَرِيقِ الْمُعَرَّسِ، وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ يُصَلِّي فِي مَسْجِدِ الشَّجَرَةِ، وَإِذَا رَجَعَ صَلَّى بِذِي الْحُلَيْفَةِ بِبَطْنِ الْوَادِي، وَبَاتَ حَتَّى يُصْبِحَ.
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫৩৩
✅ জিয়ারতের আদব ও টিপস
- •হোটেল থেকে গোসল করে, ইহরামের কাপড় পরে আসতে পারেন; এখানে দুই রাকাত পড়ে নিয়ত করে তালবিয়া শুরু করুন।
- •মসজিদে গোসলখানা, অজুখানা আর ইহরামের কাপড় পরার বড় ব্যবস্থা আছে।
- •বাসে যাঁরা মক্কায় যাচ্ছেন, মিকাত পার হওয়ার আগে অবশ্যই নিয়ত করুন — না করলে দম (কুরবানি) দিতে হবে।
হাদিসের বাংলা অনুবাদ প্রচলিত বাংলা অনুবাদ থেকে নেওয়া, আরবি মূল পাঠসহ; হাদিস নম্বর আন্তর্জাতিক প্রচলিত নম্বর অনুযায়ী। ঐতিহাসিক বিবরণ সহিহ হাদিস ও সীরাত গ্রন্থ অনুসারে — যেখানে বর্ণনা দুর্বল বা মতভেদপূর্ণ, সেখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে।