যেখানে নবী ﷺ ঈদের নামাজ ও বৃষ্টির নামাজ পড়েছেন।
- কোথায়
- মসজিদে নববীর দক্ষিণ-পশ্চিমে, প্রায় ৫০০ মিটার
- আগে ছিল
- নবী ﷺ-এর ঈদগাহ (মুসাল্লা)
- নামের অর্থ
- গামামা = মেঘ
১ নবী ﷺ-এর ঈদগাহ
নবী ﷺ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ মসজিদে না পড়ে খোলা মাঠে (মুসাল্লা) পড়তেন। প্রথমে নামাজ, তারপর মানুষের দিকে ফিরে খুতবা দিতেন — মানুষ কাতারে বসে থাকত (সহিহ বুখারি ৯৫৬)। সেই মাঠের জায়গায় আজকের মসজিদে গামামা।
২ বৃষ্টির নামাজ আর নাজাশির গায়েবানা জানাজা
অনাবৃষ্টির সময় নবী ﷺ এই ঈদগাহে বেরিয়ে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন, কিবলামুখী হয়ে নিজের চাদর উল্টে নেন, তারপর দুই রাকাত নামাজ পড়েন (সহিহ বুখারি ১০১২)। প্রচলিত আছে, সেদিন একখণ্ড মেঘ এসে তাঁকে ছায়া দিয়েছিল — সেখান থেকে “গামামা” (মেঘ) নাম।
হাবশার বাদশাহ নাজাশি — যিনি মক্কার নির্যাতিত মুসলমানদের আশ্রয় দিয়েছিলেন — যেদিন মারা যান, নবী ﷺ সেদিনই তাঁর মৃত্যুর খবর দেন, জানাজার মাঠে গিয়ে কাতার বানিয়ে চার তাকবিরে গায়েবানা জানাজা পড়ান (সহিহ বুখারি ১২৪৫)।
📜 পূর্ণ হাদিস
হাদিসগুলো সম্পূর্ণ দেওয়া হয়েছে — কোনো অংশ বাদ দেওয়া হয়নি। প্রতিটির নিচে আরবি মূল পাঠও আছে।
হাদিস ১ · সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৫৬
ঈদের দিন মুসাল্লায়
মূল কথা: আগে নামাজ, পরে খুতবা — মুসাল্লায় ঈদের সুন্নাহ।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিত্র ও ‘ঈদুল আযহার দিন ‘ঈদমাঠে যেতেন এবং সেখানে তিনি প্রথম যে কাজ শুরু করতেন তা হল সালাত। আর সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন এবং তাঁরা তাঁদের কাতারে বসে থাকতেন। তিনি তাঁদের নাসীহাত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং নির্দেশ দান করতেন। যদি তিনি কোন সেনাদল পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের আলাদা করে নিতেন। অথবা যদি কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করার ইচ্ছা করতেন তবে তা জারি করতেন। অতঃপর তিনি ফিরে যেতেন। আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) বলেন, লোকেরা বরাবর এ নিয়মই অনুসরণ করে আসছিল। অবশেষে যখন মারওয়ান মদিনার ‘আমীর হলেন, তখন ‘ঈদুল আযহা বা ‘ঈদুল ফিত্রের উদ্দেশে আমি তাঁর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন ‘ঈদমাঠে পৌঁছলাম তখন সেখানে একটি মিম্বর দেখতে পেলাম, সেটি কাসীর ইবনু সাল্ত (রাযি.) তৈরি করেছিলেন। মারওয়ান সালাত আদায়ের পূর্বেই এর উপর আরোহণ করতে উদ্যত হলেন। আমি তাঁর কাপড় টেনে ধরলাম। কিন্তু তিনি কাপড় ছাড়িয়ে খুৎবাহ দিলেন। আমি তাকে বললাম, আল্লাহর কসম! তোমরা (রাসূলের সুন্নাত) পরিবর্তন করে ফেলেছ। সে বলল, হে আবূ সা‘ঈদ! তোমরা যা জানতে, তা গত হয়ে গেছে। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যা জানি, তা তার চেয়ে ভাল, যা আমি জানি না। সে তখন বলল, লোকজন সালাতের পর আমাদের জন্য বসে থাকে না, তাই ওটা সালাতের আগেই করেছি।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي زَيْدٌ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى الْمُصَلَّى، فَأَوَّلُ شَىْءٍ يَبْدَأُ بِهِ الصَّلاَةُ ثُمَّ يَنْصَرِفُ، فَيَقُومُ مُقَابِلَ النَّاسِ، وَالنَّاسُ جُلُوسٌ عَلَى صُفُوفِهِمْ، فَيَعِظُهُمْ وَيُوصِيهِمْ وَيَأْمُرُهُمْ، فَإِنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يَقْطَعَ بَعْثًا قَطَعَهُ، أَوْ يَأْمُرَ بِشَىْءٍ أَمَرَ بِهِ، ثُمَّ يَنْصَرِفُ. قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَلَمْ يَزَلِ النَّاسُ عَلَى ذَلِكَ حَتَّى خَرَجْتُ مَعَ مَرْوَانَ وَهْوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ فِي أَضْحًى أَوْ فِطْرٍ، فَلَمَّا أَتَيْنَا الْمُصَلَّى إِذَا مِنْبَرٌ بَنَاهُ كَثِيرُ بْنُ الصَّلْتِ، فَإِذَا مَرْوَانُ يُرِيدُ أَنْ يَرْتَقِيَهُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَجَبَذْتُ بِثَوْبِهِ فَجَبَذَنِي فَارْتَفَعَ، فَخَطَبَ قَبْلَ الصَّلاَةِ، فَقُلْتُ لَهُ غَيَّرْتُمْ وَاللَّهِ. فَقَالَ أَبَا سَعِيدٍ، قَدْ ذَهَبَ مَا تَعْلَمُ. فَقُلْتُ مَا أَعْلَمُ وَاللَّهِ خَيْرٌ مِمَّا لاَ أَعْلَمُ. فَقَالَ إِنَّ النَّاسَ لَمْ يَكُونُوا يَجْلِسُونَ لَنَا بَعْدَ الصَّلاَةِ فَجَعَلْتُهَا قَبْلَ الصَّلاَةِ.
— সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৫৬
হাদিস ২ · সহিহ বুখারি, হাদিস ১০১২
ঈদগাহে বৃষ্টির নামাজ
মূল কথা: কিবলামুখী হয়ে চাদর উল্টানো, তারপর দুই রাকাত।
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গেলেন এবং বৃষ্টির জন্য দু‘আ করলেন। অতঃপর কিব্লামুখী হয়ে নিজের চাদরখানি উল্টিয়ে নিলেন এবং দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.) বলতেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.) হলেন আযানের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সাহাবী। কিন্তু তা ঠিক নয়। কারণ ইনি হলেন, সেই ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আসিম মাযিনী, যিনি আনসারের মাযিন গোত্রের লোক।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ عَبَّادَ بْنَ تَمِيمٍ، يُحَدِّثُ أَبَاهُ عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الْمُصَلَّى فَاسْتَسْقَى، فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، وَقَلَبَ رِدَاءَهُ، وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ. قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ كَانَ ابْنُ عُيَيْنَةَ يَقُولُ هُوَ صَاحِبُ الأَذَانِ، وَلَكِنَّهُ وَهْمٌ، لأَنَّ هَذَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ الْمَازِنِيُّ، مَازِنُ الأَنْصَارِ.
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১০১২
হাদিস ৩ · সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৪৫
নাজাশির গায়েবানা জানাজা
মূল কথা: মৃত্যুর দিনই খবর দিলেন, মুসাল্লায় চার তাকবিরে জানাজা।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাজাশী যেদিন মারা যান সেদিন-ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর খবর দেন এবং জানাযার স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবন্দী করে চার তাকবীর আদায় করলেন।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَعَى النَّجَاشِيَّ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، خَرَجَ إِلَى الْمُصَلَّى، فَصَفَّ بِهِمْ وَكَبَّرَ أَرْبَعًا.
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৪৫
✅ জিয়ারতের আদব ও টিপস
- •মসজিদটি সাধারণত নামাজের ওয়াক্তের বাইরে বন্ধ থাকে; বাইরে থেকে দেখে নিন।
- •পাশেই মসজিদে আবু বকর, উমর ও আলী (রা.) — একসাথে দেখে নিতে পারেন।
হাদিসের বাংলা অনুবাদ প্রচলিত বাংলা অনুবাদ থেকে নেওয়া, আরবি মূল পাঠসহ; হাদিস নম্বর আন্তর্জাতিক প্রচলিত নম্বর অনুযায়ী। ঐতিহাসিক বিবরণ সহিহ হাদিস ও সীরাত গ্রন্থ অনুসারে — যেখানে বর্ণনা দুর্বল বা মতভেদপূর্ণ, সেখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে।