গামামার পাশেই আবু বকর (রা.)-এর নামের ছোট মসজিদ।
- কোথায়
- মসজিদে গামামার উত্তরে, কয়েক কদম দূরে
- ঐতিহ্য
- খলিফা আবু বকর (রা.) এখানে ঈদের নামাজ পড়িয়েছিলেন বলে প্রচলিত
১ নবী ﷺ-এর সবচেয়ে কাছের সঙ্গী
আবু বকর সিদ্দীক (রা.) — পুরুষদের মধ্যে প্রথম ঈমান আনা মানুষ, হিজরতের সঙ্গী, সাওর গুহার “দ্বিতীয়জন”। নবী ﷺ-এর ইন্তেকালের পর প্রথম খলিফা।
নবী ﷺ-এর ঈদগাহের পাশের এই জায়গায় খলিফা হিসেবে তিনি ঈদের নামাজ পড়িয়েছিলেন বলে প্রচলিত — তাই মসজিদটি তাঁর নামে। (এর নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্র দুর্বল; নামটি সম্মানার্থে।)
২ শেষ ভাষণে আবু বকর (রা.)-এর মর্যাদা
শেষ অসুস্থতার সময় নবী ﷺ মিম্বরে বসে বললেন: আল্লাহ এক বান্দাকে দুনিয়া আর তাঁর কাছের জিনিসের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলেছেন, সে আল্লাহর কাছের জিনিস বেছে নিয়েছে। আবু বকর (রা.) কেঁদে ফেললেন — সবাই অবাক; পরে বুঝল, সেই বান্দা নবী ﷺ নিজে। তিনি বললেন: সঙ্গ আর সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহ করেছে আবু বকর; আমি উম্মতের কাউকে খলিল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) বানালে আবু বকরকেই বানাতাম। মসজিদের দিকে সব দরজা বন্ধ করে দাও — শুধু আবু বকরের দরজা ছাড়া (সহিহ বুখারি ৪৬৬)।
📜 পূর্ণ হাদিস
হাদিসগুলো সম্পূর্ণ দেওয়া হয়েছে — কোনো অংশ বাদ দেওয়া হয়নি। প্রতিটির নিচে আরবি মূল পাঠও আছে।
হাদিস ১ · সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৬৬
আবু বকর (রা.)-এর দরজা খোলা থাকবে
মূল কথা: নবী ﷺ-এর শেষ ভাষণের একটি অংশ।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ভাষণে বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা আছে- এ দুয়ের মধ্যে একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দিলেন। তিনি আল্লাহর নিকট যা আছে-তা গ্রহণ করলেন। তখন আবূ বাকর (রাযি.) কাঁদতে লাগলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, এই বৃদ্ধকে কোন্ বস্তুটি কাঁদাচ্ছে? আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা রয়েছে- এ দুয়ের একটা গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিলে তিনি আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা গ্রহণ করেছেন (এতে কাঁদার কী আছে?)। মূলতঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ই ছিলেন সেই বান্দা। আর আবূ বাকর (রাযি.) ছিলেন আমাদের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ বাকর, তুমি কাঁদবে না। নিজের সাহচর্য ও সম্পদ দিয়ে আমাকে যিনি সবচেয়ে অধিক ইহসান করেছেন তিনি আবূ বাকর। আমার কোন উম্মাতকে যদি আমি খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) রূপে গ্রহণ করতাম, তবে তিনি হতেন আবূ বাকর। কিন্তু তাঁর সাথে রয়েছে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য। আবূ বাকরের দরজা ব্যতীত মসজিদের কোন দরজাই রাখা হবে না, সবই বন্ধ করা হবে।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ خَيَّرَ عَبْدًا بَيْنَ الدُّنْيَا وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ، فَاخْتَارَ مَا عِنْدَ اللَّهِ ". فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي مَا يُبْكِي هَذَا الشَّيْخَ إِنْ يَكُنِ اللَّهُ خَيَّرَ عَبْدًا بَيْنَ الدُّنْيَا وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ فَاخْتَارَ مَا عِنْدَ اللَّهِ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ الْعَبْدَ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ أَعْلَمَنَا. قَالَ " يَا أَبَا بَكْرٍ لاَ تَبْكِ، إِنَّ أَمَنَّ النَّاسِ عَلَىَّ فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبُو بَكْرٍ، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً مِنْ أُمَّتِي لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ، وَلَكِنْ أُخُوَّةُ الإِسْلاَمِ وَمَوَدَّتُهُ، لاَ يَبْقَيَنَّ فِي الْمَسْجِدِ باب إِلاَّ سُدَّ إِلاَّ باب أَبِي بَكْرٍ ".
— সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৬৬
হাদিস ২ · সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩
“যাঁদের তৃতীয়জন আল্লাহ”
মূল কথা: সাওর গুহায় আবু বকর (রা.)-এর ভয় আর নবী ﷺ-এর আশ্বাস।
আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন গুহায় আত্মগোপন করেছিলাম তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, যদি কাফিররা তাদের পায়ের নীচের দিকে দৃষ্টিপাত করে তবে আমাদেরকে দেখে ফেলবে। তিনি বললেন, হে আবূ বাকর, ঐ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কী ধারণা আল্লাহ্ যাঁদের তৃতীয় জন।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا فِي الْغَارِ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ نَظَرَ تَحْتَ قَدَمَيْهِ لأَبْصَرَنَا. فَقَالَ " مَا ظَنُّكَ يَا أَبَا بَكْرٍ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثَالِثُهُمَا ".
— সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩
✅ জিয়ারতের আদব ও টিপস
- •মসজিদটি সাধারণত বন্ধ থাকে; গামামার সাথে বাইরে থেকে দেখে নিন।
হাদিসের বাংলা অনুবাদ প্রচলিত বাংলা অনুবাদ থেকে নেওয়া, আরবি মূল পাঠসহ; হাদিস নম্বর আন্তর্জাতিক প্রচলিত নম্বর অনুযায়ী। ঐতিহাসিক বিবরণ সহিহ হাদিস ও সীরাত গ্রন্থ অনুসারে — যেখানে বর্ণনা দুর্বল বা মতভেদপূর্ণ, সেখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে।