🏛️ রাসুল ﷺ-এর জন্মস্থান (মক্কা লাইব্রেরি)
Prophet's Birthplace (Makkah Library)
মসজিদুল হারামের পাশেই — এখানেই রাসুলুল্লাহ ﷺ জন্মগ্রহণ করেন।
- কোথায়
- মসজিদুল হারামের পূর্ব দিকে, মারওয়ার উল্টো পাশে — সুক আল-লাইল এলাকা
- এখন
- মক্কা লাইব্রেরি (মাকতাবা মক্কা আল-মুকাররমা)
- কবে
- হস্তীবাহিনীর বছর, সোমবার (প্রায় ৫৭০/৫৭১ খ্রি.)
১ হস্তীবাহিনীর বছর
যে বছর ইয়েমেনের শাসক আবরাহা হাতি নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে এসেছিল আর আল্লাহ আবাবিল পাখি পাঠিয়ে তাকে ধ্বংস করেছিলেন (সূরা ফীল), সেই বছরই মক্কায় জন্ম নেন মুহাম্মদ ﷺ। জন্মের আগেই বাবা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেছিলেন; মা আমিনা আর দাদা আবদুল মুত্তালিবের কোলে তিনি বড় হন।
জন্মের দিনটি ছিল সোমবার — নবী ﷺ নিজে বলেছেন: “এ দিনে আমার জন্ম, এ দিনেই আমার ওপর (ওহি) নাজিল হয়েছে” (সহিহ মুসলিম ১১৬২)। তাই তিনি সোমবার রোজা রাখতেন। তারিখ (রবিউল আউয়ালের কোন দিন) নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে।
২ ঘরটি আজ কেমন
প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী তিনি আবু তালিবের পাড়ায় (শিআবে বনি হাশিম) যে ঘরে জন্মেছিলেন, সে জায়গায় আজ একটি সাধারণ দোতলা ভবন — মক্কা লাইব্রেরি। জায়গাটি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মতভেদ থাকলেও এটিই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ।
ভেতরে সাধারণত প্রবেশ করা যায় না; বাইরে থেকে দেখে আসতে হয়।
📜 পূর্ণ হাদিস
হাদিসগুলো সম্পূর্ণ দেওয়া হয়েছে — কোনো অংশ বাদ দেওয়া হয়নি। প্রতিটির নিচে আরবি মূল পাঠও আছে।
হাদিস ১ · সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২
সোমবার: জন্ম ও নবুয়তের দিন
মূল কথা: সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বললেন — এ দিন আমি জন্মেছি, এ দিনেই নবুয়ত পেয়েছি। (হাদিসের শেষ অংশে)
আবূ কাতাদাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি কিভাবে সওম পালন করেন? তার এ কথায় রসূলুল্লাহ অসন্তুষ্ট হলেন। উমর (রাযিঃ) তার অসন্তোষ লক্ষ্য করে বললেন, “আমরা আল্লাহর উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর আমাদের নবী হিসেবে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহর কাছে তার ও তার রসূলের অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” “উমর (রাযিঃ) কথাটি বার বার আওড়াতে থাকলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসন্তোষের ভাব দূরীভূত হল। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যে ব্যক্তি সারা বছর সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, সে সওম পালন করেনি এবং ছেড়েও দেয়নি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, যে পর্যায়ক্রমে দু'দিন সওম পালন করে ও একদিন সওম ত্যাগ করে, তার অবস্থা কীরূপ? তিনি বললেন, এ সামর্থ্য কার আছে? (অর্থাৎ সামর্থ্য) থাকলে বেশ ভাল কথা। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, যে ব্যক্তি একদিন পর একদিন সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, এটা দাউদ (আঃ) এর সওম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, যে একদিন সওম পালন করে ও একদিন করে না, তার অবস্থা কিরূপ? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আশা করি যে, আমার এতটা শক্তি হোক। তিনি পুনরায় বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করা এবং রমাযান মাসের সওম এক রমাযান থেকে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত সারা বছর সওম পালনের সমান। আর আরাফাহ দিবসের সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে। আর আশুরার সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারাহ হয়ে যাবে।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، جَمِيعًا عَنْ حَمَّادٍ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، - عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، رَجُلٌ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَيْفَ تَصُومُ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ - رضى الله عنه - غَضَبَهُ قَالَ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ غَضَبِ اللَّهِ وَغَضَبِ رَسُولِهِ . فَجَعَلَ عُمَرُ - رضى الله عنه - يُرَدِّدُ هَذَا الْكَلاَمَ حَتَّى سَكَنَ غَضَبُهُ فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ الدَّهْرَ كُلَّهُ قَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ - أَوْ قَالَ - لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ " . قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمَيْنِ وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ " وَيُطِيقُ ذَلِكَ أَحَدٌ " . قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ " ذَاكَ صَوْمُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " . قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمَيْنِ قَالَ " وَدِدْتُ أَنِّي طُوِّقْتُ ذَلِكَ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ فَهَذَا صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ " .
— সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২
✅ জিয়ারতের আদব ও টিপস
- •ভবনের দেয়াল ছোঁয়া, সেখানে নামাজ বা বিশেষ দোয়া করা শরিয়তে নেই — দেখে শিক্ষা নিন।
- •সোমবারের রোজা নবী ﷺ-এর জন্মদিনের সুন্নাহ — এটিই তাঁর দেখানো উদযাপন।
হাদিসের বাংলা অনুবাদ প্রচলিত বাংলা অনুবাদ থেকে নেওয়া, আরবি মূল পাঠসহ; হাদিস নম্বর আন্তর্জাতিক প্রচলিত নম্বর অনুযায়ী। ঐতিহাসিক বিবরণ সহিহ হাদিস ও সীরাত গ্রন্থ অনুসারে — যেখানে বর্ণনা দুর্বল বা মতভেদপূর্ণ, সেখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে।