হাতিম — অর্ধচন্দ্রাকার দেয়ালঘেরা জায়গা, আসলে কাবারই অংশ।
- কোথায়
- কাবার উত্তর পাশে, অর্ধচন্দ্রাকার নিচু দেয়ালঘেরা
- আরেক নাম
- হাতিম / হিজরে ইসমাঈল
- কাবার অংশ
- প্রায় ছয় হাত (৩ মিটার) কাবার ভেতরের জায়গা
১ কাবার ভেতরের অংশ, ছাদের বাইরে
কাবার উত্তর দিকে কোমর-সমান অর্ধচন্দ্রাকার দেয়াল দিয়ে ঘেরা খোলা জায়গাটি আসলে কাবারই অংশ। কুরাইশরা যখন কাবা নতুন করে বানায়, তারা ঠিক করেছিল শুধু হালাল টাকা লাগাবে। টাকা কম পড়ায় এই অংশ বাদ রেখে ঘর ছোট করা হয়।
আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, এই দেয়ালঘেরা জায়গা কি কাবার অংশ? নবী ﷺ বললেন — হ্যাঁ (সহিহ বুখারি ১৫৮৪)।
২ কাবার ভেতরে নামাজ পড়ার সুযোগ
আয়েশা (রা.) কাবার ভেতরে নামাজ পড়তে চাইলেন। নবী ﷺ তাঁর হাত ধরে হাতিমে নিয়ে গিয়ে বললেন: কাবার ভেতরে পড়তে চাইলে এখানে পড়ো, এটিও বাইতুল্লাহর অংশ (তিরমিযি ৮৭৬)।
তাই হাতিমে নামাজ পড়া মানে কাবার ভেতরে নামাজ পড়া। আর এ কারণেই তাওয়াফ হাতিমের বাইরে দিয়ে করতে হয় — ভেতর দিয়ে গেলে কাবার একটি অংশ বাদ পড়ে, সেই চক্কর গণ্য হয় না।
📜 পূর্ণ হাদিস
হাদিসগুলো সম্পূর্ণ দেওয়া হয়েছে — কোনো অংশ বাদ দেওয়া হয়নি। প্রতিটির নিচে আরবি মূল পাঠও আছে।
হাদিস ১ · সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫৮৪
দেয়ালঘেরা জায়গা কি কাবার অংশ?
মূল কথা: হ্যাঁ; অর্থের অভাবে কুরাইশ এটি বাইরে রেখেছিল, আর দরজা উঁচু করেছিল নিজেদের ইচ্ছায় ঢুকতে দেওয়ার জন্য।
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করলাম, (হাতীমের) দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত, তিনি বললেনঃ হাঁ। আমি বললাম, তাহলে তারা বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করল না কেন? তিনি বললেনঃ তোমার গোত্রের (অর্থাৎ কুরাইশের কা‘বা নির্মাণের) সময় অর্থ নিঃশেষ হয়ে যায়। আমি বললাম, কা‘বার দরজা এত উঁচু হওয়ার কারণ কী? তিনি বললেনঃ তোমার কওমতো এ জন্য করেছে যে, তারা যাকে ইচ্ছা তাকে ঢুকতে দিবে এবং যাকে ইচ্ছা নিষেধ করবে। যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়াতের নিকটবর্তী না হত এবং আশঙ্কা না হত যে, তারা একে ভাল মনে করবে না, তাহলে আমি দেয়ালকে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং তার দরজা ভূমি বরাবর করে দিতাম।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْجَدْرِ أَمِنَ الْبَيْتِ هُوَ قَالَ " نَعَمْ ". قُلْتُ فَمَا لَهُمْ لَمْ يُدْخِلُوهُ فِي الْبَيْتِ قَالَ " إِنَّ قَوْمَكِ قَصَّرَتْ بِهِمُ النَّفَقَةُ ". قُلْتُ فَمَا شَأْنُ بَابِهِ مُرْتَفِعًا قَالَ " فَعَلَ ذَلِكِ قَوْمُكِ لِيُدْخِلُوا مَنْ شَاءُوا وَيَمْنَعُوا مَنْ شَاءُوا، وَلَوْلاَ أَنَّ قَوْمَكِ حَدِيثٌ عَهْدُهُمْ بِالْجَاهِلِيَّةِ فَأَخَافُ أَنْ تُنْكِرَ قُلُوبُهُمْ أَنْ أُدْخِلَ الْجَدْرَ فِي الْبَيْتِ وَأَنْ أُلْصِقَ بَابَهُ بِالأَرْضِ ".
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫৮৪
হাদিস ২ · সুনানে তিরমিযি, হাদিস ৮৭৬
হাতিমে নামাজ = কাবার ভেতরে নামাজ
মূল কথা: নবী ﷺ আয়েশা (রা.)-কে হাতিমে নিয়ে গিয়ে নামাজ পড়তে বললেন।
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কাবা ঘরের অভ্যন্তরে ঢুকে সেখানে আমি নামায আদায়ের ইচ্ছা করতম তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে হিজর (হাতীম)-এ প্রবেশ করিয়ে আমাকে বললেনঃ যদি তুমি বাইতুল্লায় চাও তাহলে এই হিজরেই নামায আদায় করে নাও। কেননা এও বাইতুল্লাহর অংশ। কিন্তু তোমার সম্প্রদায় কা'বা ঘর ছোট করে নির্মাণ করে এবং (অর্থাভাবে) এই স্থানটিকে কা'বার বাইরে রেখে দেয়। — হাসান সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ , সহীহাহ এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বর্ণনাকারী আলকামার পিতার নাম বিলাল।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أُحِبُّ أَنْ أَدْخُلَ، الْبَيْتَ فَأُصَلِّيَ فِيهِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِي فَأَدْخَلَنِي الْحِجْرَ فَقَالَ " صَلِّي فِي الْحِجْرِ إِنْ أَرَدْتِ دُخُولَ الْبَيْتِ فَإِنَّمَا هُوَ قِطْعَةٌ مِنَ الْبَيْتِ وَلَكِنَّ قَوْمَكِ اسْتَقْصَرُوهُ حِينَ بَنَوُا الْكَعْبَةَ فَأَخْرَجُوهُ مِنَ الْبَيْتِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَلْقَمَةُ بْنُ أَبِي عَلْقَمَةَ هُوَ عَلْقَمَةُ بْنُ بِلاَلٍ .
— সুনানে তিরমিযি, হাদিস ৮৭৬
✅ জিয়ারতের আদব ও টিপস
- •তাওয়াফ অবশ্যই হাতিমের বাইরে দিয়ে করুন।
- •ভেতরে ঢোকার সুযোগ সাধারণত ভিড় কম থাকলে (গভীর রাত বা দুপুরে) পাওয়া যায়; নারী-পুরুষের আলাদা সময় থাকতে পারে।
- •ভেতরে বেশিক্ষণ জায়গা দখল করে রাখবেন না — অন্যদেরও সুযোগ দিন।
হাদিসের বাংলা অনুবাদ প্রচলিত বাংলা অনুবাদ থেকে নেওয়া, আরবি মূল পাঠসহ; হাদিস নম্বর আন্তর্জাতিক প্রচলিত নম্বর অনুযায়ী। ঐতিহাসিক বিবরণ সহিহ হাদিস ও সীরাত গ্রন্থ অনুসারে — যেখানে বর্ণনা দুর্বল বা মতভেদপূর্ণ, সেখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে।