হজ্জের তাঁবুর শহর — এখানে থেকে কংকর মারা হয়।
- কোথায়
- মক্কা থেকে প্রায় ৭ কিমি পূর্বে, হারামের ভেতরে
- কবে
- ৮ জিলহজ্জ এবং ১০–১৩ জিলহজ্জ
- তাঁবু
- লক্ষাধিক আগুন-নিরোধক সাদা তাঁবু — “তাঁবুর শহর”
১ তাঁবুর শহর
বছরের প্রায় সব দিন মিনা ফাঁকা পড়ে থাকে, কিন্তু হজ্জের পাঁচ দিন এখানে ত্রিশ লাখের মতো মানুষ থাকে। ৮ জিলহজ্জ (তারবিয়ার দিন) হাজিরা এখানে এসে যোহর থেকে পরদিন ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন; ঈদের দিন থেকে আবার দুই-তিন দিন এখানে থেকে জামারায় কংকর মারেন।
নবী ﷺ মিনায় চার রাকাতের নামাজ দুই রাকাত (কসর) পড়েছেন, আবু বকর ও উমর (রা.)-ও (সহিহ বুখারি ১৬৫৫)। প্রতিটি নামাজ তার ওয়াক্তে, একসাথে নয়।
২ কুরবানির দিনের ভাষণ
ঈদের দিন নবী ﷺ মিনায় ভাষণ দিলেন: “এটা কোন দিন?” — সম্মানিত দিন। “এটা কোন শহর?” — সম্মানিত শহর। “এটা কোন মাস?” — সম্মানিত মাস। তিনি বললেন: তোমাদের রক্ত, সম্পদ আর সম্মান তোমাদের জন্য এমনই পবিত্র। বারবার বললেন, আর আকাশের দিকে মাথা তুলে বললেন: হে আল্লাহ, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? … আমার পরে তোমরা একে অপরের গলা কেটে কাফির হয়ে যেয়ো না (সহিহ বুখারি ১৭৩৯)।
৩ ইবরাহীম (আ.)-এর কুরবানি
আল্লাহর আদেশে ইবরাহীম (আ.) প্রিয় পুত্রকে কুরবানি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন; পুত্রও বলেছিলেন, “বাবা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা-ই করুন, ইনশাআল্লাহ আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।” আল্লাহ তাঁর বদলে একটি জান্নাতি দুম্বা পাঠালেন (সূরা সাফফাত ১০২–১০৭)। প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী এ ঘটনা মিনাতেই ঘটেছিল; আজও হাজিরা এখানে কুরবানি করেন।
📖 কুরআনে এই জায়গা
وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ
আর স্মরণ কর আল্লাহকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কয়েকটি দিনে।
— সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২০৩ (অংশ)
📜 পূর্ণ হাদিস
হাদিসগুলো সম্পূর্ণ দেওয়া হয়েছে — কোনো অংশ বাদ দেওয়া হয়নি। প্রতিটির নিচে আরবি মূল পাঠও আছে।
হাদিস ১ · সহিহ বুখারি, হাদিস ১৭৩৯
কুরবানির দিনের ভাষণ
মূল কথা: “তোমাদের রক্ত, সম্পদ, সম্মান পরস্পরের জন্য হারাম — এই দিন, এই শহর, এই মাসের মতো।”
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন লোকদের উদ্দেশে একটি খুৎবাহ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! আজকের এ দিনটি কোন্ দিন? সকলেই বললেন, সম্মানিত দিন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ শহরটি কোন্ শহর? তাঁরা বললেন, সম্মানিত শহর। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ মাসটি কোন্ মাস? তারা বললেনঃ সম্মানিত মাস। তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের ইয্যত-সম্মান তোমাদের জন্য তেমনি সম্মানিত, যেমন সম্মানিত তোমাদের এ দিনটি, তোমাদের এ শহরে এবং তোমাদের এ মাস। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। পরে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি (আপনার পয়গাম) পৌঁছিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়েছি? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই এ কথাগুলো ছিল তাঁর উম্মতের জন্য অসীয়ত। [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ] উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। আমার পরে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ غَزْوَانَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ النَّاسَ يَوْمَ النَّحْرِ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ. أَىُّ يَوْمٍ هَذَا ". قَالُوا يَوْمٌ حَرَامٌ. قَالَ " فَأَىُّ بَلَدٍ هَذَا ". قَالُوا بَلَدٌ حَرَامٌ. قَالَ " فَأَىُّ شَهْرٍ هَذَا ". قَالُوا شَهْرٌ حَرَامٌ. قَالَ " فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا ". فَأَعَادَهَا مِرَارًا، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ". قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَوَصِيَّتُهُ إِلَى أُمَّتِهِ ـ " فَلْيُبْلِغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، لاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ ".
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১৭৩৯
হাদিস ২ · সহিহ বুখারি, হাদিস ১৬৫৫
মিনায় কসর নামাজ
মূল কথা: নবী ﷺ, আবু বকর, উমর (রা.) — সবাই মিনায় দুই রাকাত পড়েছেন।
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন এবং আবূ বকর, ‘উমার (রাঃ)-ও। আর ‘উসমান (রাঃ) তাঁর খিলাফতের প্রথম ভাগেও দু’ রাক‘আত আদায় করেছেন।
আরবি মূল পাঠ দেখুন ▼আরবি মূল পাঠ লুকান ▲
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ، وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ صَدْرًا مِنْ خِلاَفَتِهِ.
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১৬৫৫
✅ জিয়ারতের আদব ও টিপস
- •নিজের তাঁবুর নম্বর, মুয়াল্লিমের নাম আর রাস্তার নম্বর কার্ডে লিখে রাখুন — সব তাঁবু দেখতে একই রকম।
- •আইয়ামে তাশরিকে (১১–১৩ জিলহজ্জ) বেশি বেশি তাকবির বলুন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ…
- •তাঁবুতে গিবত, ঝগড়া আর মোবাইলে সময় নষ্ট এড়িয়ে চলুন — এগুলো আল্লাহর জিকিরের দিন।
হাদিসের বাংলা অনুবাদ প্রচলিত বাংলা অনুবাদ থেকে নেওয়া, আরবি মূল পাঠসহ; হাদিস নম্বর আন্তর্জাতিক প্রচলিত নম্বর অনুযায়ী। ঐতিহাসিক বিবরণ সহিহ হাদিস ও সীরাত গ্রন্থ অনুসারে — যেখানে বর্ণনা দুর্বল বা মতভেদপূর্ণ, সেখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে।